নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ০২:৪৩ পি.এম
ছবি : নির্মাণাধীন ভবন
রাজধানীর ওয়ারী এলাকার অভয় দাস লেনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোন ৬/১-এর আওতাধীন একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়ম মেনে রাজউকের অনুমোদন থাকলেও, বাস্তবে সরু গলির ভেতরে এই ভবন নির্মাণ জনস্বার্থের চরম বিরোধী এবং এটি ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে একটি 'মরণ ফাঁদ' হিসেবে রূপ নিচ্ছে।
জনসাধারণের মরণ ফাঁদ ও ফায়ার সার্ভিসের আশঙ্কা:
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৩/৬ অভয় দাস লেনে জি+৯ (১০ তলা) ভবনটি এমন একটি সরু গলির ভিতরে তৈরি হচ্ছে, যেখানে একটি রিকশাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। এলাকাবাসীর প্রধান উদ্বেগ হলো, এই সরু পথে বড় কোনো দুর্ঘটনা—যেমন অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্প হলে—ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো একেবারেই অসম্ভব। এলাকাবাসী এবং নিয়মিত পথচারীদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল নিজেদের অর্থ ও শক্তির জোরে জনসাধারণের নিরাপত্তাকে তোয়াক্কা না করেই এই ভবন নির্মাণ করছে। তাদের দাবি, তারা এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যেন কেউ নেই।
অভিযোগের আঙ্গুল রাজউক কর্মকর্তাদের দিকে:
এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ, রাজউক জোন ৬/১-এর কর্মকর্তাদের 'ম্যানেজ' করেই এই অবৈধ পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন আইন থাকে পকেটে বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা জানান, টাকা থাকলে আইন যে কোনো দিকে ঘোরানো যায়, এ ধারণা এলাকাবাসীর মধ্যে দৃঢ় হচ্ছে।
প্রকৌশলীর বিস্ময়কর বক্তব্য:
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভবনটির নির্মাণকারী প্রকৌশলী জনাব মেহেদী হাসান কোনো যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা না দিয়ে রাজউক কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এক কথায় বলেন, "এই জোনের অথোরাইজার মামুন সাহেব খুব ভালো লোক, পরিদর্শক ডেভিড সাহেব আরও ভালো লোক। এর পূর্বে আমিনুল ইসলাম পিয়াল সাহেবও আরও ভালো লোক ছিলেন, সবাই প্রশংসার দাবিদার।"
রাস্তার সঙ্কীর্ণতা এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রবেশের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রকৌশলী মেহেদী এক বিস্ময়কর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "বিল্ডিংয়ের সামনে রাস্তার দরকার নেই। লোকজন যাতায়াতের জন্য বিল্ডিংয়ের পিছনের রাস্তা ব্যবহার করতে পারবে। আর আমার কাজ হচ্ছে বিল্ডিংটি তৈরি করা এবং হ্যান্ডওভার করে চলে যাওয়া, এ বিষয়ে ভালো জানেন রাজউকের কর্মকর্তারা।" তার এই বক্তব্যে জনস্বার্থ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তার চরম উদাসীনতা প্রকাশ পায়।
বিশেষজ্ঞদের মত:
নগর পরিকল্পনা ও নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এহেন বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া এবং নির্মাণ চালিয়ে যাওয়া জনস্বার্থ বিরোধী কাজ। যারা এই অনুমোদন দিয়েছেন এবং যারা নির্মাণ করছেন, তারা উভয়েই দেশ ও সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। জননিরাপত্তা উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মুনাফা লাভের এই চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
অভিযান চললেও কাজ থামছে না:
এলাকাবাসী আরও জানান, কিছুদিন পূর্বে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা এই নির্মাণাধীন ভবনে একটি অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু, সেই অভিযানের পরেও কাজ থামেনি। বরং, কাজ আরও জোরেশোরে চলছে। এটি প্রমাণ করে যে, লোক দেখানো অভিযানের পরেও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সাধারণ জনগণ সারা জীবনই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে। যা দেখার কেউ নাই।—এলাকাবাসীর এই হতাশা মাখা কথাগুলো যেন রাজধানী ঢাকার নগর পরিকল্পনার করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।
রাজউক জোন ৬/১-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও জনস্বার্থ বিরোধী কাজের সঠিক তদন্ত এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
ডিএসসিসির কর অঞ্চল-৫: স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে দোকানপ্রতি ১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ
টেন্ডার ছাড়াই ১০ বছর ধরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্যান্টিন পরিচালনার অভিযোগ
মুগদা সরকারি মেডিকেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের নামে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ, শতাধিক কর্মী ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন
অঞ্চল-৫-এ রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ: কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, যা দেখার কেউ নাই
কমলাপুর রেলস্টেশনে মাস্টাররোল কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কাটার অভিযোগ
অভয় দাস লেন সরু গলির ভিতরে বহুতল ভবন: জনদুর্ভোগের 'মরণ ফাঁদ'
যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নির্দেশ
ধলপুরে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই জি+৯ ভবন নির্মাণের অভিযোগ
মাতুয়াইল ডিপিডিসির লাইনম্যান যখন কোটিপতি, তাহলে প্রকৌশলীদের অবস্থা কী?
রাজউকের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার—ঝুঁকিতে তারেক টাওয়ার
যাত্রাবাড়ীতে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
ঢাকা দক্ষিণ ৪৯ নং ওয়ার্ড থেকে মোবারক হোসেনের বদলি
তদবির বাণিজ্যে ও মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পত্তির মালিক কে এই কোহিনূর চোকদার?
শরীরে আয়রনের অভাব? যেসব খেতে পারেন
শিশু নির্যাতন বন্ধে চাই মানুষের মধ্যে সুকুমারবৃত্তির বিকাশ