নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ০৮ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ০১:০৮ পি.এম
ছবি
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কাওসার ও জাহাঙ্গীর, গ্রাহক হয়রানি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
রাজধানীর পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গ্রাহক ও অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে।
অভিযোগের অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছে অফিস সুপারভাইজার কাওসার-এর নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার পরিবর্তন ও মিটার সরবরাহ/বিক্রির ক্ষেত্রে তার নামে-বেনামে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অফিসের ভেতরেই মিটার সংক্রান্ত লেনদেনের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন গ্রাহক।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর আলম, ইলেকট্রিশিয়ান—তার বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে পোস্তগোলা অফিসে কর্মরত। HT ও LTI গ্রাহকদের মিটার রিডিং সংগ্রহ এবং বিল-সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সুযোগ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এক ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, জাহাঙ্গীর আলমের মূল দায়িত্ব কন্ট্রোল রুমে হলেও বর্তমানে তিনি স্টোরের দায়িত্বও পালন করছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা এবং একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে কতটা নিয়মসঙ্গত—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মিটার রিডিং কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ, মিল-কারখানা ও বহুতল ভবনের মতো বড় গ্রাহকদের মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মিটার রিডিং কমিয়ে দেওয়া বা বিল কমানোর বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে এবং এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একদিকে কিছু গ্রাহক আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও লাভবান হচ্ছেন।
সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন
কাওসারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, পুরান ঢাকায় তার চারটি ফ্ল্যাট, নদীর ওপারে প্রায় ১৭ শতাংশ জমি এবং কেরানীগঞ্জ স্ট্যান্ড বাজার এলাকায় একটি ওয়ালটন শোরুম রয়েছে।
তবে এসব সম্পদের মালিকানা, প্রকৃত মূল্য, অর্থের উৎস এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
‘আমরা কাজ শিখছি হাতে, তারা শিখছে কলমে’—
গ্রাহকদের অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহকের ভাষ্য, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, মিটার সংযোগ, মিটার রিডিংসহ কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ে কাওসার ও জাহাঙ্গীরের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের দাবি, এসব কাজে তারা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন প্রকৌশলীরাও তাদের সামনে ‘শিশু’।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চুরি ও অনিয়ম ঠেকাতে এনালগ থেকে ডিজিটাল এবং পরবর্তীতে আধুনিক মিটারিং ব্যবস্থা চালু হলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব সহজে কমেনি।
তাদের ভাষায়, “আমরা কাজ শিখছি হাতে, তারা শিখছে কলমে”— অর্থাৎ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীদের দাবি, পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মকাল, দায়িত্ব বণ্টন, মিটার সংযোগ ও পরিবর্তনের নথি, HT/LTI গ্রাহকদের মিটার রিডিং, বিল সংশোধনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
তারা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা কর্মচারীদের বদলি, অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই ক্রান্তিকালে, বিদ্যুৎ নিয়ে সরকার সমালোচনার চাপের মুখে রয়েছে, আর এই সময়ে জাহাঙ্গীর ও কাউসার গংরা বিদ্যুৎ চুরি সহ বিভিন্ন অনিয়ম করে সরকারকে হেনস্থা করার পায়তারা চালাচ্ছে, যা দেখার কেউ নাই। এলাকাবাসীরা জানিয়েছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাহলে এদের রুখবে কে?
পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, যা দেখার কেউ নাই
কমলাপুর রেলস্টেশনে মাস্টাররোল কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কাটার অভিযোগ
অভয় দাস লেন সরু গলির ভিতরে বহুতল ভবন: জনদুর্ভোগের 'মরণ ফাঁদ'
যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নির্দেশ
ধলপুরে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই জি+৯ ভবন নির্মাণের অভিযোগ
মাতুয়াইল ডিপিডিসির লাইনম্যান যখন কোটিপতি, তাহলে প্রকৌশলীদের অবস্থা কী?
রাজউকের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার—ঝুঁকিতে তারেক টাওয়ার
যাত্রাবাড়ীতে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
ঢাকা দক্ষিণ ৪৯ নং ওয়ার্ড থেকে মোবারক হোসেনের বদলি
তদবির বাণিজ্যে ও মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পত্তির মালিক কে এই কোহিনূর চোকদার?
শরীরে আয়রনের অভাব? যেসব খেতে পারেন
শিশু নির্যাতন বন্ধে চাই মানুষের মধ্যে সুকুমারবৃত্তির বিকাশ