বুধবার ২৮ অক্টোবার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
দুর্নীতি ও অনিয়ম

মুগদা সরকারি মেডিকেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের নামে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ, শতাধিক কর্মী ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ১৫ অক্টোবার ২০২৬ ১০:৩৫ এ.এম

ছবি ছবি

চাকরির প্রলোভনে লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ; নতুন নিয়োগ ও কর্মীদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিয়ে তদন্তের দাবি

 

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় অনিয়ম, অর্থ লেনদেন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের কথা বলে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত শতাধিক পরিছন্নতাকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা এবং অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত নিয়োগের পরিবর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের সুযোগকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।

আগের আউটসোর্সিং নিয়োগে রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ওই সময় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাবেরের নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সময় আউটসোর্সিংয়ের কাজ পাওয়া রাজা মিয়া নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে চাকরির আশ্বাস দিয়ে অসংখ্য দরিদ্র ও অসহায় নারীসহ চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রাজা মিয়া তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মগোপন করেন। কেউ কেউ তাঁর দেশত্যাগের অভিযোগও করেছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি না পাওয়া এবং টাকা ফেরত না পাওয়ার ঘটনায় তাঁরা প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন—চাকরির আশায় ধারদেনা করে টাকা দেওয়ার পর প্রতিকার চাইবেন কোথায়?

শতাধিক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর কফিল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।
তাঁদের দাবি, আউটসোর্সিংয়ের নতুন টেন্ডার চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আগের ব্যবস্থায় কর্মরত শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই!

তাঁদের আরও অভিযোগ, চাকরিচ্যুতির প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়, টেন্ডার ছাড়াই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে?


নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ নিয়ে নতুন অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে এস.টি.ই. কোম্পানির মিজান নামের এক ব্যক্তি মুগদা হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের কাজ পান। তাঁর ও তাঁর শ্যালক মিশন এবং দালাল মঞ্জুর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রায় শতাধিক জনের কাছ থেকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে মিজানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মিজান, মিশন, কফিল উদ্দিন এবং রাজা মিয়ার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সরকারি হাসপাতালে নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি নিয়োগ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ—দুটি পৃথক ব্যবস্থা।

আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্মী সরবরাহ করে; নিয়োগ ও অর্থপ্রদানের শর্ত সংশ্লিষ্ট দরপত্র, চুক্তি এবং প্রযোজ্য বিধিবিধানের ওপর নির্ভর করে।

তবে আউটসোর্সিংয়ের নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা নেওয়া, চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ গ্রহণ কিংবা চুক্তি ও আইন অমান্য করে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর অভিযোগ। এসব বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—চাকরির নিরাপত্তা কোথায়?

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাঁরা দরিদ্র পরিবারের সদস্য। অনেকে সংসারের খরচ চালাতে এবং সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। চাকরি পাওয়ার আশায় অর্থ দেওয়ার পর চাকরি না পাওয়া, আবার কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ তাঁদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালে কাজ করতে গিয়ে যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তাহলে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুরক্ষা কে নিশ্চিত করবে? আর চাকরির প্রলোভনে অর্থ নিয়ে কেউ প্রতারণা করলে সেই অর্থ ফেরত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?

সরকারি হাসপাতালের সামনে যত্রতত্র ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে ও আশপাশে নতুন করে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না। বর্তমানে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি করা হবে এবং মানসম্মত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে। ।

এ ছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। ।

মন্ত্রীর এই বক্তব্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত তারেক টাওয়ারের আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির অনুমোদন, লাইসেন্স ও কার্যক্রম যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, কথিত অর্থ লেনদেন এবং শতাধিক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


 

আরও খবর

news image

ডিএসসিসির কর অঞ্চল-৫: স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে দোকানপ্রতি ১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

news image

টেন্ডার ছাড়াই ১০ বছর ধরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্যান্টিন পরিচালনার অভিযোগ

news image

মুগদা সরকারি মেডিকেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের নামে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ, শতাধিক কর্মী ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন

news image

অঞ্চল-৫-এ রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ: কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

news image

পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, যা দেখার কেউ নাই

news image

কমলাপুর রেলস্টেশনে মাস্টাররোল কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কাটার অভিযোগ

news image

অভয় দাস লেন সরু গলির ভিতরে বহুতল ভবন: জনদুর্ভোগের 'মরণ ফাঁদ'

news image

যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নির্দেশ

news image

ধলপুরে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই জি+৯ ভবন নির্মাণের অভিযোগ

news image

মাতুয়াইল ডিপিডিসির লাইনম্যান যখন কোটিপতি, তাহলে প্রকৌশলীদের অবস্থা কী?

news image

রাজউকের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার—ঝুঁকিতে তারেক টাওয়ার

news image

যাত্রাবাড়ীতে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

news image

ঢাকা দক্ষিণ ৪৯ নং ওয়ার্ড থেকে মোবারক হোসেনের বদলি

news image

তদবির বাণিজ্যে ও মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পত্তির মালিক কে এই কোহিনূর চোকদার?

news image

শরীরে আয়রনের অভাব? যেসব খেতে পারেন

news image

শিশু নির্যাতন বন্ধে চাই মানুষের মধ্যে সুকুমারবৃত্তির বিকাশ