নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ১০ অক্টোবার ২০২৬ ০২:৩২ পি.এম
ছবি : নির্মাণাধীন ভবন
মুগদায় ‘আর.এ.এইচ মুগদা কমপ্লেক্স’ ঘিরে প্রশ্ন—নির্মাণকালীন নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে রাজউকের সরেজমিন তদন্তের দাবি
রাজধানীর মুগদা এলাকায় মূল সড়ক ও বিশ্বরোডসংলগ্ন স্থানে নির্মাণাধীন ‘আর.এ.এইচ মুগদা কমপ্লেক্স (বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন)’ ঘিরে ভবন নির্মাণের অনুমোদিত নকশা অনুসরণ, নির্মাণের অগ্রগতি এবং শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
নির্মাণস্থলে স্থাপিত সাইনবোর্ডে বেজমেন্টসহ ১০ তলা ভবনের পরিকল্পনার তথ্য উল্লেখ থাকলেও, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে রাজউকের মূল নথি পর্যালোচনা ও সরেজমিন পরিদর্শন জরুরি।
নির্মাণাধীন ভবনটির সামনে রাখা সিমেন্ট, পাথর ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী, সড়কসংলগ্ন অবস্থান এবং নির্মাণকাজ চলাকালীন সুরক্ষাব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও জননিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
সাইনবোর্ডে প্রকল্পের পরিচিতি ও অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য
নির্মাণস্থলে স্থাপিত তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড অনুযায়ী, প্রকল্পটির নাম ‘আর.এ.এইচ মুগদা কমপ্লেক্স (বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন)’। সেখানে রাজউকের নির্মাণ অনুমোদন স্মারক নম্বর হিসেবে ২৫.৩৯.০০০০.১২২.৩৩.১০৬.২৩ উল্লেখ রয়েছে।
সাইনবোর্ডে জমির মালিক হিসেবে তিনটি পক্ষের নাম প্রদর্শিত হয়েছে। তাঁরা হলেন—
১. জনাব আবুল কাওসার গং। ২. জনাব আব্দুল জব্বার শিকদার। ৩. সুমাইয়া নুসরাত ঐশি।
ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ রয়েছে আর.এ.এইচ বিল্ডার্স লিমিটেড।
সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ৮৯, অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদাপাড়া, ঢাকা-১২১৪।
সাইনবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জমির পরিমাণ ৮.৬৮ কাঠা। জমির তফসিলে আরএস দাগ নম্বর ১৪৮০২, ১৪৮০৩ ও ১৪৮০৪ (আংশিক) এবং এমএস দাগ নম্বর ১০৬১৬, ১০৬১৭, ১০৬১৮ ও ১০৬১৯ (আংশিক) উল্লেখ রয়েছে। মৌজার নাম রাজারবাগ।
বেজমেন্টসহ ১০ তলা—কোন তলায় কী ব্যবহারের পরিকল্পনা?
সাইনবোর্ডে ভবনটির নির্মাণবিবরণে বেজমেন্টসহ ১০ তলার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফ্লোরভিত্তিক ব্যবহারের বিবরণে বলা হয়েছে—
বেজমেন্ট: একটি ফ্লোর।
বাণিজ্যিক অংশ: গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত।
আবাসিক অংশ: পঞ্চম থেকে দশম তলা পর্যন্ত।
সাইনবোর্ডে স্থপতি হিসেবে অনন্যা শবনামের নাম এবং MIAB ও রাজউক নিবন্ধন নম্বর S-180 উল্লেখ রয়েছে। প্রকৌশলী হিসেবে এ.কে.এম. শফিক পাটোয়ারীর নাম, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যও প্রদর্শিত হয়েছে।
সাইনবোর্ডে নির্মাণকাজ শুরুর তারিখ জানুয়ারি ২০২৪ এবং কাজ সমাপ্তির সম্ভাব্য তারিখ জুন ২০২৭ উল্লেখ রয়েছে।
তবে একটি ভবনের সাইনবোর্ডে অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য থাকা এবং বাস্তবে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ পরিচালিত হওয়া এক বিষয় নয়। অনুমোদিত তলাসংখ্যা, ভবনের উচ্চতা, ফ্লোরের আয়তন, ব্যবহার, পার্কিং ও বেজমেন্টের বিন্যাস এবং কাঠামোগত নকশার সঙ্গে বর্তমান নির্মাণের সামঞ্জস্য যাচাই করেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
অনুমোদিত নকশা বনাম বাস্তব নির্মাণ—যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন
সরেজমিনে ভবনটির নির্মাণকাজ চলমান দেখা গেছে। বিভিন্ন অংশে কলাম, বিম, ইটের গাঁথুনি ও অন্যান্য নির্মাণকাজ দৃশ্যমান। নির্মাণস্থলের সামনের অংশে সিমেন্ট, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীও রাখা রয়েছে।
এ অবস্থায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে।
ভবনটির বর্তমান নির্মাণ পর্যায় কি অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
বেজমেন্ট ও ওপরের তলাগুলোর নির্মাণ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না?
বাণিজ্যিক ও আবাসিক অংশের ব্যবহার পরিকল্পনা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না? নির্মাণকাজে কোনো সংশোধিত নকশা অনুসরণ করা হলে তার বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না?
নির্মাণের কোনো পর্যায়ে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রযোজ্য বিধিমালার আলোকে রাজউকের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
নির্মাণকালীন নিরাপত্তা—শ্রমিক ও পথচারীদের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত?
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুসরণের পাশাপাশি নির্মাণকাজ চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কসংলগ্ন নির্মাণস্থলে শ্রমিক, পথচারী, যানবাহনের চালক এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
নির্মাণস্থলের সামনে সিমেন্ট, পাথর ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দেখা যাওয়ায় সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, পথচারীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ জায়গা রয়েছে কি না এবং প্রয়োজনীয় ব্যারিকেড ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে কি না—এসব বিষয় সরেজমিনে পরীক্ষা করা দরকার। আমাদের প্রতিনিধি রিপোর্ট করার পূর্বে তার যথেষ্ট ঘাটতি পেয়েছে।
উচ্চতর ভবন নির্মাণের সময় ওপর থেকে ইট, পাথর, রড বা অন্য কোনো বস্তু পড়ে গেলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে অনিরাপদ স্ক্যাফোল্ড, অস্থায়ী সিঁড়ি, খোলা প্রান্ত, বৈদ্যুতিক সংযোগ কিংবা যথাযথ সুরক্ষাসামগ্রীর অভাব শ্রমিকদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই নির্মাণস্থলে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, ওপর থেকে বস্তু পড়ে যাওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা, কার্যকর ব্যারিকেড এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজউকের বিধিমালা ও তদারকি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নির্মাণস্থলে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সাইট পরিদর্শনও ভবন নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘আর.এ.এইচ মুগদা কমপ্লেক্স’-এর ক্ষেত্রে তাই শুধু সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত অনুমোদন নম্বর যাচাই করলেই যথেষ্ট হবে না। অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বর্তমান অবস্থা, কাঠামোগত বিন্যাস, বেজমেন্টের ব্যবহার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক অংশের পরিকল্পনা এবং নির্মাণকালীন সুরক্ষাব্যবস্থা সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
রাজউক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জরুরি
প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ‘আর.এ.এইচ মুগদা কমপ্লেক্স’ সম্পর্কে রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনের নির্দিষ্ট কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, সরেজমিন তদন্তের প্রতিবেদন কিংবা নির্মাণের অনুমোদিত নকশার কপি পাওয়া যায়নি, প্রকল্পটির অনুমোদন, নির্মাণের বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে রাজউকের বক্তব্য এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান
আর.এ.এইচ বিল্ডার্স লিমিটেডের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
জনস্বার্থে সরেজমিন তদন্তের দাবি
মুগদার গুরুত্বপূর্ণ মূল সড়ক সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনটি ঘিরে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ ও নির্মাণকালীন নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে যেসব প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
জনস্বার্থে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রকল্পটির অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই, নির্মাণের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং শ্রমিক ও পথচারীদের সুরক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষা করার দাবি জানানো হচ্ছে।
বিশেষ করে নির্মাণস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যারিকেড, নিরাপদ চলাচলের পথ, নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
একটি ভবনের নির্মাণ অনুমোদন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে নির্মাণ চলাকালীন সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা জনস্বার্থে অধিক কার্যকর।
অগ্রণী ব্যাংকে অস্থায়ীদের স্থায়ীকরণের প্রলোভনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
বাঘ ও মানুষের সংঘাত ঠেকাতে সুন্দরবনে নাইলনের বেড়া
জি+৯ ভবন ঘিরে যত প্রশ্ন—ইঞ্জিনিয়ার আসাদের ভবনে নকশার ব্যত্যয়ের অভিযোগ
নকশায় বেজমেন্টসহ ১০ তলা, বাস্তব নির্মাণ কতটা অনুমোদন অনুযায়ী?
বসুন্ধরা গ্রুপের জমি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সরকারি সংস্থার নজরদারি
নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ও তার মতামত
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ
রেলের ডিজির পিএস নাসির উদ্দীনকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়
রাজস্ব ফাঁকি থেকে ঘুষ-দুর্নীতি: ডিএসসিসিতে প্রশাসকের ‘জিরো টলারেন্স’ কতটা কার্যকর?
ভাওতাবাজির শীর্ষে মীর হাজিরবাগের আরিফুল ইসলাম—রাজউকে অভিযোগ, উঠছে নানা প্রশ্ন
আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞান সাধনার অনন্য কেন্দ্র "চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ"
গোলাপবাগে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ
রাজধানী ডেমরার ডেভেলপারদের নয়নমণি "রমজান মাস্টারের" রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫ কি রাজউকের সমস্ত নিয়ম মেনেই তৈরি হচ্ছে?
হোটেল-রেস্তোরাঁর ধোঁয়ায় বায়ুদূষণের অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
মীর হাজীরবাগে রাজউকের অনুমোদিত নকশার বাইরে ইমারত নির্মাণের অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক: প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে দাবি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের
বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার সেলিম প্রধান
একযোগে ৩৪ বিচারককে বদলি ও ৪ জনের পদোন্নতি
শাপলা চত্বর মামলা: একাত্তর টিভির লাইসেন্স ও নথি তলব
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত