শনিবার ১২ সেপ্টেম্বার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
দুর্নীতি ও অনিয়ম

রাজউকের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার—ঝুঁকিতে তারেক টাওয়ার

ছবি : তারেক টাওয়ার ছবি : তারেক টাওয়ার

মুগদায় ভবন ও দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে নানা অভিযোগ, যানজটে ভোগান্তিতে রোগী ও পথচারীরা।

 

রাজধানীর মুগদা সরকারি হাসপাতালের বিপরীতে ৪৫/১/এ, তারেক টাওয়ার, মুগদা, ঢাকা-১২০৪ ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভবনটিতে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বর্তমানে মুগদা ডায়াগনস্টিক এন্ড ইমেজিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। এতে ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী-স্বজনদের নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পার্কিংয়ের জায়গায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার?

অভিযোগ রয়েছে, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের কারণে ভবনটিতে যানবাহন রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগী বহনকারী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন ভবনের সামনে অবস্থান করায় নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

অন্যদিকে, ভবনের ২য় ও ৩য় তলায় ইনসাইট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসাল্টিং সেন্টার রয়েছে। একই ভবনে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী ও স্বজনের যাতায়াত হচ্ছে।

রোগী পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মুগদা সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ভবনটির ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান।

রোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ধরন ও খরচ নিয়ে অনেক সময় তারা বিভ্রান্তিতে পড়েন। 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ

দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও চিকিৎসা ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটির পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসাবর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না হলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ফলের দোকান ও বাড়তি দামের অভিযোগ

তারেক টাওয়ার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার দুটির আশপাশে বেশ কয়েকটি ফলের দোকান রয়েছে। রোগী দেখতে আসা স্বজনদের অনেকে এসব দোকান থেকে ফল কিনে থাকেন।

স্থানীয় কয়েকজন রোগীর স্বজনের অভিযোগ, আশপাশের কিছু দোকানে ফলের দাম তুলনামূলক বেশি নেওয়া হয়। একজন রোগীর স্বজন বলেন, “রোগী দেখতে এলে ফল নিয়ে আসতেই হয়। কিন্তু এখানে অনেক সময় অন্য জায়গার তুলনায় বেশি দাম চাওয়া হয়।”

তদারকি ও তদন্তের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভবনের অনুমোদিত নকশা, বর্তমান ব্যবহার, পার্কিং ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, ডায়াগনস্টিক সেন্টার দুটির লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সবকিছু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শন করা উচিত।

তাদের দাবি, রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস সমন্বিতভাবে বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

 

আরও খবর

news image

পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, যা দেখার কেউ নাই

news image

কমলাপুর রেলস্টেশনে মাস্টাররোল কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কাটার অভিযোগ

news image

অভয় দাস লেন সরু গলির ভিতরে বহুতল ভবন: জনদুর্ভোগের 'মরণ ফাঁদ'

news image

যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নির্দেশ

news image

ধলপুরে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই জি+৯ ভবন নির্মাণের অভিযোগ

news image

মাতুয়াইল ডিপিডিসির লাইনম্যান যখন কোটিপতি, তাহলে প্রকৌশলীদের অবস্থা কী?

news image

রাজউকের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার—ঝুঁকিতে তারেক টাওয়ার

news image

যাত্রাবাড়ীতে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

news image

ঢাকা দক্ষিণ ৪৯ নং ওয়ার্ড থেকে মোবারক হোসেনের বদলি

news image

তদবির বাণিজ্যে ও মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পত্তির মালিক কে এই কোহিনূর চোকদার?

news image

শরীরে আয়রনের অভাব? যেসব খেতে পারেন

news image

শিশু নির্যাতন বন্ধে চাই মানুষের মধ্যে সুকুমারবৃত্তির বিকাশ