বুধবার ২৮ অক্টোবার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
বিশেষ প্রতিবেদন

রাজধানী ডেমরার ডেভেলপারদের নয়নমণি "রমজান মাস্টারের" রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫ কি রাজউকের সমস্ত নিয়ম মেনেই তৈরি হচ্ছে?

ছবি : ডেভেলপারদের নয়নমনি "রমজান মাস্টার" ছবি : ডেভেলপারদের নয়নমনি "রমজান মাস্টার"

রাজধানীর ডেমরা-মাতুয়াইল এলাকায় রূপসী পল্লী টাওয়ার হাউজিংয়ের বিভিন্ন ভবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনায় এসেছে রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫, ডগাইর পশ্চিম পাড়া, মাজার রোড, ডেমরা, ঢাকা। ভবনটির নির্মাণকাজ রাজউকের অনুমোদিত নকশা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও অন্যান্য কারিগরি নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
 

রূপসী পল্লী টাওয়ারের সঙ্গে রমজান আলী মাস্টারের নাম জড়িত বলে বিভিন্ন পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে রূপসী পল্লী টাওয়ার হাউজিংয়ের নামে ১ থেকে ১৮ নম্বর পর্যন্ত একাধিক বহুতল ভবনের কথা উল্লেখ করে নির্মাণকাজ ও জমি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। একই প্রতিবেদনে ভবনগুলোর বেজমেন্ট নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
 

টাওয়ার-১৫ নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪-এর হাতে আসা ছবিতে দেখা যায়, রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫ নামে চিহ্নিত ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু জায়গার মধ্যে নির্মিত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজের কিছু অসম্পূর্ণতা ও খোলা রড দেখা যাচ্ছে।
তবে শুধু ছবি দেখে ভবনটি রাজউকের অনুমোদনবহির্ভূত বা ঝুঁকিপূর্ণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন রাজউকের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন, সংশোধিত নকশা থাকলে তার কপি, জমির কাগজপত্র এবং প্রকৌশলগত পরীক্ষা।
 

পুরোনো সংবাদে গুরুতর অভিযোগ
২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রূপসী পল্লী টাওয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রমজান আলী মাস্টারকে ঘিরে সরকারি জমি, বহুতল ভবন নির্মাণ এবং রাজউক ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে ১ থেকে ১৮ নম্বর টাওয়ারের কথা উল্লেখ করা হয়।
অন্য একটি প্রতিবেদনে রূপসী পল্লী টাওয়ার হাউজিংয়ের মালিক হিসেবে রমজান আলী মাস্টারের নাম উল্লেখ করে ১ থেকে ১৮ নম্বর ভবনের নির্মাণ এবং জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। সেখানে ভবনের বেজমেন্টের নির্মাণ উপকরণ নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
 

তাহলে টাওয়ার-১৫ কি নিয়ম মেনেই তৈরি হচ্ছে?
এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনের কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন এবং নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।
বিশেষ করে দেখা দরকার—
রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫-এর রাজউক অনুমোদিত নকশা আছে কি না;
নির্মিত ভবনের সঙ্গে অনুমোদিত নকশার মিল রয়েছে কি না;
ভবনের সেটব্যাক ও রাস্তার জায়গা বিধিমালা অনুযায়ী রাখা হয়েছে কি না;
অনুমোদিত উচ্চতা ও তলার সংখ্যা অতিক্রম করা হয়েছে কি না;
ভবনের পার্কিং ব্যবস্থা অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী আছে কি না;
ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না;
নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশায় কোনো পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তা রাজউক অনুমোদন করেছে কি না।
 

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত হোক
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, রূপসী পল্লী টাওয়ারের বিভিন্ন ভবন নিয়ে যেসব অভিযোগ অতীতে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সেগুলোর আলোকে টাওয়ার-১৫-সহ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোও রাজউকের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করা প্রয়োজন।
তাদের প্রশ্ন—একই প্রকল্পের একাধিক ভবন নিয়ে যখন অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তখন নতুন করে নির্মাণাধীন বা নির্মিত ভবনগুলোর অনুমোদন ও নির্মাণমান যাচাই করা হচ্ছে কি না?
 

রমজান আলী মাস্টারের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ
পূর্বে প্রকাশিত সংবাদে রমজান আলী মাস্টারের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছিল। তিনি রূপসী পল্লী টাওয়ারের ভবনগুলো পার্টনারশিপে নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পাশাপাশি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।
তাই রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে ভবনটির মালিকানা, ডেভেলপার, অনুমোদিত নকশা এবং নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
 

রাজউকের কাছে প্রশ্ন
রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫-এর অনুমোদিত নকশা কি রাজউকের রেকর্ডে রয়েছে?
ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে রাজউক কি কোনো সরেজমিন পরিদর্শন করেছে?
যদি পরিদর্শন হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরও জনসম্মুখে আসা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫-এর অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণমান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে জনস্বার্থে


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

অগ্রণী ব্যাংকে অস্থায়ীদের স্থায়ীকরণের প্রলোভনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

news image

বাঘ ও মানুষের সংঘাত ঠেকাতে সুন্দরবনে নাইলনের বেড়া

news image

জি+৯ ভবন ঘিরে যত প্রশ্ন—ইঞ্জিনিয়ার আসাদের ভবনে নকশার ব্যত্যয়ের অভিযোগ

news image

নকশায় বেজমেন্টসহ ১০ তলা, বাস্তব নির্মাণ কতটা অনুমোদন অনুযায়ী?

news image

বসুন্ধরা গ্রুপের জমি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সরকারি সংস্থার নজরদারি

news image

নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ও তার মতামত

news image

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

news image

রেলের ডিজির পিএস নাসির উদ্দীনকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

news image

রাজস্ব ফাঁকি থেকে ঘুষ-দুর্নীতি: ডিএসসিসিতে প্রশাসকের ‘জিরো টলারেন্স’ কতটা কার্যকর?

news image

ভাওতাবাজির শীর্ষে মীর হাজিরবাগের আরিফুল ইসলাম—রাজউকে অভিযোগ, উঠছে নানা প্রশ্ন

news image

আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞান সাধনার অনন্য কেন্দ্র "চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ"

news image

গোলাপবাগে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

news image

রাজধানী ডেমরার ডেভেলপারদের নয়নমণি "রমজান মাস্টারের" রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫ কি রাজউকের সমস্ত নিয়ম মেনেই তৈরি হচ্ছে?

news image

হোটেল-রেস্তোরাঁর ধোঁয়ায় বায়ুদূষণের অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

news image

মীর হাজীরবাগে রাজউকের অনুমোদিত নকশার বাইরে ইমারত নির্মাণের অভিযোগ

news image

পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী

news image

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

news image

ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক: প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে দাবি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের

news image

বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার সেলিম প্রধান

news image

একযোগে ৩৪ বিচারককে বদলি ও ৪ জনের পদোন্নতি

news image

শাপলা চত্বর মামলা: একাত্তর টিভির লাইসেন্স ও নথি তলব

news image

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত