নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ১৫ অক্টোবার ২০২৬ ১১:১৮ এ.এম
ছবি
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও জেনারেটরে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ; ভবনের বিভিন্ন পাশে ব্যত্যয়ের তথ্য, রাজউকের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডে একটি নির্মাণাধীন ভবন ঘিরে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ, নির্মাণবিধি প্রতিপালন এবং রাজউকের নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিল্ডিং ফর রিয়েল এস্টেট লিমিটেড।
ভবনটির ঠিকানা হোল্ডিং-৬৪/এফ-১, আর কে মিশন রোড, গোপীবাগ, ওয়ারী, ঢাকা। ভবনটি নিয়ে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ের অভিযোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও জেনারেটর ব্যবহার করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
ভবনের বিভিন্ন পাশে ব্যত্যয়ের তথ্য
ভবনটির বিভিন্ন পাশ ও বারান্দা সম্পর্কে পাওয়া তথ্যে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে যাচাই করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী—
সামনের অংশ: একটি কলামের অবস্থান বা পরিমাপে ৩-০০০৫ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
পেছনের অংশ: ৩৪৮১-৬/৩:০০ হিসেবে একটি পরিমাপ বা পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ডান পাশ: ১-০০/২-০৭ হিসেবে পরিমাপ বা পর্যবেক্ষণের তথ্য রয়েছে।
বাম পাশ: উল্লেখযোগ্য ব্যত্যয় নেই বলে জানানো হয়েছে।
বারান্দা: সামনের ও পেছনের অংশে কিছুটা ব্যত্যয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও জেনারেটরে কাজ—অভিযোগ
ভবনটির নকশার ব্যত্যয়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরও জেনারেটর ব্যবহার করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যদি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে অননুমোদিত নির্মাণ বন্ধ রাখা, তাহলে সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছিল কি না, নির্মাণকাজ বন্ধের কোনো লিখিত নির্দেশ ছিল কি না এবং নির্দেশ অমান্য করে কাজ চলেছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরিদর্শক এবং প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে নির্মাণকাজ বন্ধের কোনো আদেশ জারি হয়েছিল কি না, তা-ও যাচাই করা প্রয়োজন।
আইন ও বিধি প্রয়োগে সমতা নিশ্চিত করা জরুরি
রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা ও প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০২৫, Building Construction Act, 1952 এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইন ও বিধির আলোকে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
কোনো ভবনের ক্ষেত্রে নকশার ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইনসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া।
সাধারণ নাগরিকের বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে যদি নিয়মিত তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবন নির্মাণকারী কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকৌশলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবনের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ডে যাচাই হওয়া উচিত। আইন প্রয়োগে পরিচয় নয়, বরং প্রমাণ ও বিধিই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য।
প্রশ্ন শুধু একটি ভবনের নয়, জননিরাপত্তারও
নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্মাণশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। ভবনের সামনের অংশ, পেছনের অংশ, পার্শ্ববর্তী সীমানা এবং বারান্দায় কোনো ব্যত্যয় থাকলে তা ভবনের অনুমোদন ও নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা কারিগরিভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এ কারণে হোল্ডিং-৬৪/এফ-১, আর কে মিশন রোড, গোপীবাগের ভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন করে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের তুলনামূলক যাচাই, ব্যত্যয়ের পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন-পরবর্তী নির্মাণকাজের অভিযোগ তদন্তের দাবি উঠেছে।
রাজউকের
বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাব প্রয়োজন
বিষয়টি নিয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনের বক্তব্য এবং বিল্ডিং ফর রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান আসাদের বক্তব্য পেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
জনস্বার্থে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ব্যত্যয় নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহি প্রত্যাশী নাগরিকেরা।
ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য
" ভবন নির্মাণের সময় কেউ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বা নকশা লঙ্ঘন এবং আইনবহির্ভূত কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে " বলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
" ভবন নির্মাণের সময় কেউ ইমারত বিধি লঙ্ঘন কিংবা বিধিমালা ভাঙলে ও আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে " বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
অগ্রণী ব্যাংকে অস্থায়ীদের স্থায়ীকরণের প্রলোভনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
বাঘ ও মানুষের সংঘাত ঠেকাতে সুন্দরবনে নাইলনের বেড়া
জি+৯ ভবন ঘিরে যত প্রশ্ন—ইঞ্জিনিয়ার আসাদের ভবনে নকশার ব্যত্যয়ের অভিযোগ
নকশায় বেজমেন্টসহ ১০ তলা, বাস্তব নির্মাণ কতটা অনুমোদন অনুযায়ী?
বসুন্ধরা গ্রুপের জমি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সরকারি সংস্থার নজরদারি
নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ও তার মতামত
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ
রেলের ডিজির পিএস নাসির উদ্দীনকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়
রাজস্ব ফাঁকি থেকে ঘুষ-দুর্নীতি: ডিএসসিসিতে প্রশাসকের ‘জিরো টলারেন্স’ কতটা কার্যকর?
ভাওতাবাজির শীর্ষে মীর হাজিরবাগের আরিফুল ইসলাম—রাজউকে অভিযোগ, উঠছে নানা প্রশ্ন
আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞান সাধনার অনন্য কেন্দ্র "চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ"
গোলাপবাগে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ
রাজধানী ডেমরার ডেভেলপারদের নয়নমণি "রমজান মাস্টারের" রূপসী পল্লী টাওয়ার-১৫ কি রাজউকের সমস্ত নিয়ম মেনেই তৈরি হচ্ছে?
হোটেল-রেস্তোরাঁর ধোঁয়ায় বায়ুদূষণের অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
মীর হাজীরবাগে রাজউকের অনুমোদিত নকশার বাইরে ইমারত নির্মাণের অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক: প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে দাবি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের
বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার সেলিম প্রধান
একযোগে ৩৪ বিচারককে বদলি ও ৪ জনের পদোন্নতি
শাপলা চত্বর মামলা: একাত্তর টিভির লাইসেন্স ও নথি তলব
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত