নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ১৪ আগষ্ট ২০২৬ ০৪:৪৬ পি.এম
ছবি : নির্মাণাধীন ভবন
নোটিশের পরও নির্মাণকাজ, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রির অভিযোগ—তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর
রাজধানীর ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের বাম পাশে মূল সড়কের ওপর হোল্ডিং নং-২০, ধলপুর এলাকায় রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই একটি জি+৯ ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। H2 Builders Construction নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক হিসেবে হাসান ও হোসেন নামে দুই ভাইয়ের নাম স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে ভবনের অধিকাংশ ফ্ল্যাট এবং নিচতলার বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণমান এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এইচ টু বিল্ডার্স কন্সট্রাকশন ভবন মালিকদের সাথে পুরো বিল্ডিং এর শেয়ার ৫০℅ এর বিনিময়ে কাজ শুরু করে এখন তা শেষ পর্যায়ে, কিন্তু তারা ইতিমধ্যে তাদের ৫০% এর মধ্যে পাওয়া ফ্লাট ও বাণিজ্যিক দোকান বিক্রি প্রায় শেষের দিকে। তারা এক হিসেবে তড়িঘড়ি করে তাদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক দোকান বিক্রি করে দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে বিক্রি করে চলে যাওয়ার সময় শেষের দিকে।
রাজউকের নোটিশের পরও নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাজউকের পক্ষ থেকে ভবনটিতে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা ছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবনের দ্বিতীয় তলার সানশেডের আনুমানিক তিন ফুট অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের অভিযানে ভেঙে দেওয়া অংশটি প্রায় দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই পুনরায় নির্মাণ করা হয়। কীভাবে নিষেধাজ্ঞা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরও ওই অংশ পুনর্নির্মাণ করা হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে পরিদর্শক হিসেবে বিশ্বজিতের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন
ভবনটির নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও ভবন মালিক সহ স্থানীয় বাসিন্দা ও কথিত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনে ব্যবহৃত রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কোথাও কোথাও সামান্য আঘাতেই নির্মাণসামগ্রী খসে পড়ার মতো পরিস্থিতি দেখা যায়।
তবে ভবনটির প্রকৃত কাঠামোগত নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিতে হলে যোগ্য প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি পরীক্ষা প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করতে প্রতিবেদক নিজে সম্ভাব্য ফ্ল্যাট ক্রেতা হিসেবে ভবনটি পরিদর্শনের চেষ্টা করেন। পরিদর্শনে ভবনটির নির্মাণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে বলে দাবি করা হলেও, ভবনটি ভূমিকম্পে ধসে পড়বে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকৌশলগত পরীক্ষা ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য যে, ভবনটির উপরে গেলে নিচ থেকে ভারী যানবাহন গেলে কম্পনের শব্দ হয়।
মূল সড়কের পাশে ভবন, দুর্ঘটনায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা
ভবনটি রাজধানীর একটি ব্যস্ত মূল সড়কের পাশে হওয়ায় এর নির্মাণগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বিষয়টি শুধু ফ্ল্যাট ক্রেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পথচারী, যানবাহন এবং আশপাশের বাসিন্দারাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ভবন অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, কাঠামোগত সক্ষমতা কতটুকু এবং ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ভবনটি কতটা নিরাপদ—এসব বিষয় যথাযথ কারিগরি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
রাজউকের নথিতে কী আছে?
ভবনটির অনুমোদন ও কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে হোল্ডিং নম্বর ও মৌজার তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনটির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে।
এমনকি ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে রাজউকের নথি, অনুমোদিত নকশা, ভূমির কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।
ফ্ল্যাট ক্রেতাদের নিরাপত্তা কোথায়?
রাজউকের অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি হয়ে থাকলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরবর্তীতে ভবন নিয়ে আইনি বা কাঠামোগত জটিলতা সৃষ্টি হলে সাধারণ ক্রেতারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
আমাদের প্রতিনিধি ফ্লাট ক্রয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এইচ টু বিল্ডার্স কন্সট্রাকশন এর প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করলে এবং রাজউকের নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা এই বিষয়য়ে জানতে চাইলে, এইচ টু বিল্ডার্স কনস্ট্রাকশন এর প্রতিনিধি জানান আমরা রাজউককে ম্যানেজ করে আমাদের যাবতীয় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এটা অনেক বড় দুঃখজনক যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত বিদ্যমান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—রাজউকের অনুমোদন না থাকলে কীভাবে ভবনটির নির্মাণকাজ এতদূর এগোল ? নোটিশ ও মোবাইল কোর্টের পর কীভাবে পুনরায় নির্মাণকাজ হলো মূল সড়কে ? বিদ্যুৎ মিটার জব্দের পর পুনরায় সংযোগ বা নির্মাণকাজের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত।
তদন্তের দাবি
জনস্বার্থে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন, জমির কাগজপত্র, কাঠামোগত নকশা, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং পূর্বে দেওয়া রাজউকের নোটিশ ও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম যাচাই করার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট মালিক এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অন্য যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে ভবনটির প্রকৃত ঝুঁকি নির্ধারণে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কাঠামোগত পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।
তাছাড়া বিষয়টা যথাযথ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
ডিএসসিসির কর অঞ্চল-৫: স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে দোকানপ্রতি ১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ
টেন্ডার ছাড়াই ১০ বছর ধরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্যান্টিন পরিচালনার অভিযোগ
মুগদা সরকারি মেডিকেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের নামে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ, শতাধিক কর্মী ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন
অঞ্চল-৫-এ রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ: কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, যা দেখার কেউ নাই
কমলাপুর রেলস্টেশনে মাস্টাররোল কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কাটার অভিযোগ
অভয় দাস লেন সরু গলির ভিতরে বহুতল ভবন: জনদুর্ভোগের 'মরণ ফাঁদ'
যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নির্দেশ
ধলপুরে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই জি+৯ ভবন নির্মাণের অভিযোগ
মাতুয়াইল ডিপিডিসির লাইনম্যান যখন কোটিপতি, তাহলে প্রকৌশলীদের অবস্থা কী?
রাজউকের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার—ঝুঁকিতে তারেক টাওয়ার
যাত্রাবাড়ীতে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
ঢাকা দক্ষিণ ৪৯ নং ওয়ার্ড থেকে মোবারক হোসেনের বদলি
তদবির বাণিজ্যে ও মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পত্তির মালিক কে এই কোহিনূর চোকদার?
শরীরে আয়রনের অভাব? যেসব খেতে পারেন
শিশু নির্যাতন বন্ধে চাই মানুষের মধ্যে সুকুমারবৃত্তির বিকাশ