মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
দুর্নীতি ও অনিয়ম

অঞ্চল-৫-এ রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ: কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ১৪ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ০৬:২৮ পি.এম

ছবি ছবি

উৎকোচ লেনদেন, রাজস্ব ফাঁকি ও টেন্ডুলদের মাধ্যমে রফাদফার অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর অঞ্চল-৫-এর কর কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের অধীনে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে অনিয়ম, উৎকোচ লেনদেন এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন রেভিনিউ সুপারভাইজারের অধীনস্থ টেন্ডুলদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক রফাদফা করা হয়ে থাকে।

অভিযোগে যেসব রেভিনিউ সুপারভাইজার ও টেন্ডুলের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—রেভিনিউ সুপারভাইজার ইমরান ও তার টেন্ডুল বিকাশ, রেভিনিউ সুপারভাইজার ওমর ফারুক ও তার টেন্ডুল শাহ আলম, রেভিনিউ সুপারভাইজার দেলোয়ার-১, দেলোয়ার-২, রেভিনিউ সুপারভাইজার মতিয়ার বোক্তাদী, রেভিনিউ সুপারভাইজার মোবারক ও তার টেন্ডুল হালিম ও উজ্জ্বল, টেন্ডুল মাসুদ, রেভিনিউ সুপারভাইজার চন্দ্র দাস, রেভিনিউ সুপারভাইজার মফিজ এবং টেন্ডুল রিজভী।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন টেন্ডুলের দাবি, তাদের সঙ্গে কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেভিনিউ সুপারভাইজাররা সরাসরি উৎকোচের রফাদফা না করে অনেক ক্ষেত্রে টেন্ডুলদের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত পাওনা অর্থের তুলনায় কম অর্থ সরকারি হিসাবে দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, রাজস্ব আদায়ের হিসাব এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম যাচাই করে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

‘সাংবাদিকদের নিয়মিত টাকা দিয়ে বিদায় করা হয়’—এমন বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

এদিকে জসিম উদ্দিনের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট একজনের বক্তব্য হিসেবে জানা যায়, ‘আমাদের অফিসে অনেক সাংবাদিক আসেন, তাদের নিয়মিত টাকা দিয়ে বিদায় করা হয়।’

এই অর্থ যদি সত্যিই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি সরকারি রাজস্ব খাতের অর্থ, নাকি ব্যক্তিগত কোনো উৎসের অর্থ—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের প্রভাবিত করতে অর্থ দেওয়া হয়েছে কি না, অথবা কোনো অনিয়ম আড়াল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
 

অভিযোগ অস্বীকার করলেন কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন

অভিযোগের বিষয়ে কর কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও জানান।

তিনি বলেন, যারা রাজস্ব ফাঁকি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজন হলে পুলিশে সোপর্দ করা হবে।

জসিম উদ্দিন আরও জানান, রেভিনিউ সুপারভাইজার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে তিনি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের, ৮৬/২, পূর্ব মানিকনগর, ৫ কাঠার উপরে, ৬ তলা একটি ভবন রহিয়াছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে, জনাব জসিম সাহেব মুঠোফোনে জানায় এটা আমার শশুরের দেওয়া স্ত্রীর নামে জমি, এর উপরে আমি ভবন করিয়াছি। এটা নিয়ে এত অনুসন্ধানের দরকার কি?

তাছাড়াও তিনি জোর গলায় দাবী করেন, আমি সততার সাথে থেকে চাকরি করছি, আজ পর্যন্ত কেউ আমার নামে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারে নাই এবং আমার নামে নিউজ দিতে পারে নাই। অনেক আগে একজন সাংবাদিক চেষ্টা করেছিল কিন্তু সে অবশেষে মাফ চেয়ে গেছে। আসলে তার খুটির জোর কোথায় সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো জানে।

গত ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোজ: শনিবার, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ইস্কাটন গার্ডেন রোডে , তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার প্রান্তিক ও নব পুত্রবধূর রাজকীয় বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন ও ভোজ সবার আয়োজন করা হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভ কামনা করি।
 

মোবারককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

তবে ২৩ আগস্ট একটি জরুরি সভা আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানে মোবারক হোসেনকে কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের পাশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে—এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যদি মোবারক হোসেনকে সত্যিই দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সভায় কী কারণে রাখা হয়েছিল—এ বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য বের করে আনতে

কর অঞ্চল-৫-এর রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা শুধু ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়; এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় ও সরকারি অর্থের ওপর।

অভিযোগগুলো সত্য কি না, কে বা কারা রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত, টেন্ডুলদের মাধ্যমে কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না এবং সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কী—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন জনস্বার্থে। 

 

জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি—

সরকারি রাজস্ব রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদের বিরুদ্ধেই যদি রাজস্ব ফাঁকি বা উৎকোচ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন থেকেই যায়—“রক্ষকই যদি ভক্ষকের ভূমিকায় থাকে, তাহলে সরকারি রাজস্বের সুরক্ষা করবে কে?”

তাই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, "দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।"

জনস্বার্থে সচেতন সমাজ মনে করে, যে বা যাহারা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, নিজেদের আখের গোছাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

 


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

অঞ্চল-৫-এ রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ: কর কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

news image

পোস্তগোলা বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, যা দেখার কেউ নাই

news image

কমলাপুর রেলস্টেশনে মাস্টাররোল কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কাটার অভিযোগ

news image

অভয় দাস লেন সরু গলির ভিতরে বহুতল ভবন: জনদুর্ভোগের 'মরণ ফাঁদ'

news image

যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নির্দেশ

news image

ধলপুরে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই জি+৯ ভবন নির্মাণের অভিযোগ

news image

মাতুয়াইল ডিপিডিসির লাইনম্যান যখন কোটিপতি, তাহলে প্রকৌশলীদের অবস্থা কী?

news image

রাজউকের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার—ঝুঁকিতে তারেক টাওয়ার

news image

যাত্রাবাড়ীতে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

news image

ঢাকা দক্ষিণ ৪৯ নং ওয়ার্ড থেকে মোবারক হোসেনের বদলি

news image

তদবির বাণিজ্যে ও মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পত্তির মালিক কে এই কোহিনূর চোকদার?

news image

শরীরে আয়রনের অভাব? যেসব খেতে পারেন

news image

শিশু নির্যাতন বন্ধে চাই মানুষের মধ্যে সুকুমারবৃত্তির বিকাশ