নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ১১ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৯ পি.এম
সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, অঞ্চল-০৫ এ, ওয়ার্ড নং-৪৯ এবং ৪১, এর রেভিনিউ সুপারভাইজার মোঃ মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ধলপুর, যাত্রাবাড়ী এলাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দূর্নীতির খন্ডচিত্র প্রকাশ পায়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ধলপুরের অধিবাসীবৃন্দ ৪৯ নং ওয়ার্ডের রেভিনিউ সুপারভাইজার, মোঃ মোবারক হোসেনের ঘুষ খাওয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বর্তমানে উনি একিই সাথে ২-টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর ৪১ নং ওয়ার্ডের রেভিনিউ কার্যক্রমের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের পরে এবং ৪৯ নং ওয়ার্ডে প্রায় ৫ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমবার দূর্নীতির কারণে মোঃ মোবারক হোসেনকে চাকুরির ৬ মাসের মাথায় বদলি করা হয়েছিলো। কিন্তু অন্য ওয়ার্ডে কাজ করার পর তেমন ধান্ধাবাজি করতে না পেরে সে আবার ৪৯ নং ওয়ার্ডে আসার জন্য পায়তারা শুরু করে এবং সেই সুযোগও পেয়ে যায়। মোবারক হোসেনের নিজ দেশীয় লোক ধলপুরের বাড়িওয়ালা ও অত্যান্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেনকে ধরে এবং এর মাধ্যমে তৎকালীন কাউন্সিলর আলহাজ্ব বাদল সরদারের সুপারিশে আবার ৪৯ নং ওয়ার্ডে ফিরে আসেন।
ভাগ্যক্রমে তদবির বাণিজ্যের বদৌলতে এখানে এসেই তিনি অস্বাভাবিক হারে ঘুষ নেওয়া শুরু করেন। আরো জানা যায় ইতিপূর্বে ধলপুর থেকে নগর ভবনে এলাকাবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করেন তার দুর্নীতি ও অনিয়োগের বিরুদ্ধে কিন্তু রেভিনিউ সুপারভাইজারের কুট কৌশলে এলাকাবাসী কোন প্রকার সুফল পাননি।
উনি নগরভবনের ডেসপাসের লোকদের ম্যানেজ করে রেখেছিলেন যার দরুন, কেউ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে না পাঠিয়ে মোবারক হোসেনের কাছে জানানো হত, তার বিনিময় তিনি ডেসপাসের লোকদেরকে খুশি করতেন বলে জানা যায়।
এইভাবে অভিযোগ মিসিং হলে এবং ঘটনাটি ফাঁস হলে পরবর্তীতে অভিযোগটি ডাকযোগে রেজিস্ট্রি করে পাঠানো হয়। এবারো মোবারক হোসেন ঘুষের মাধ্যমে বড় বড় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ফেলেন। এরপর মোবারকের দূর্নীতির কাহিনী দৈনিক অপরাধ সময় পত্রিকাতেও ছাপানো হয়।
ধলপুর এলাকাবাসীর কাছে রেভিনিউ সুপারভাইজার মোবারক হোসেন একজন বাটপার হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসী জানায় মোবারক হোসেনের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দহররম মহরম সম্পর্ক যখন যে সরকার আসে তার সাথে সে মিশে থাকে এবং তার স্বার্থ সিদ্ধি করে। এলাকাবাসীর চোখে প্রথমে পরিচিত ছিল আওয়ামীলীগ হিসেবে, পরে বি.এন.পির লোক হয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবির জয়ী হলে মোবারক হোসেন জামায়াতের সুরে কথা বলতে থাকেন বলে এলাকাবাসীদের কেউ কেউ জানায়। এক কথায় বাটপার প্রকৃতির লোক হিসেবে তাকে চেনে এলাকাবাসী।
তার সম্পর্কে অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, টাকা পেলেই মোবারক হোসেন বহুতল বিল্ডিং কে টিনশেড বাড়ি দেখিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে যার দরুন সিটি কর্পোরেশন কাঙ্খিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এ ব্যাপারে মোবারক হোসেন কাউকে বলেন যে, ধলপুরের মানুষ আমার কিছুই করতে পারে নাই এবং পারবেও না! তিনি আরও বলেন - ধলপুরের মানুষের দৌড় কতটুকু সেটা আমি ভাল করেই জানি। আমি যেমন ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছি, তেমনিই ঘুষ নিয়েই ছাড়বো। এলাকাবাসী আরো জানায় মোবারকের এইসব কর্মকান্ডে মনে হয় অফিসে সে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খুঁলে বসেছে। সিটি কর্পোরেশন যেন সরকারি অফিস না এটা মোবারকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
মোবারক অফিসে তেমন একটা কাজ করে না বলে অনুসন্ধানে ভূক্তভোগীরা জানান। দুঃখজনক হলেও সত্যি, উনি ঘুষ - বাণিজ্য আদায়ের জন্য ওনার মতো চরিত্রের একাধিক কর্মচারী রেখেছেন নিজ প্রয়োজনে, অফিসে যাদেরকে টেন্ডল বলেই ডাকে। ভূমি অফিসে যাদের কে উম্মেদার বলতো, সিটি কর্পোরেশনে এদেরকে টেন্ডল বলে। মোবারক হোসেনের টেন্ডলের নাম আব্দুল হালিম। আব্দুল হালিম টেন্ডল খুব ধুর্ত প্রকৃতির লোক। উনি মোবারক হোসেনকে দূর্নীতির প্রশিক্ষন দেয় এবং সাহস যোগায়। মোবারক এমনিতেই খারাপ লোক। এর উপর ওস্তাদ আঃ হালিম (টেন্ডল) এর দূর্নীতির প্রশিক্ষন পায়। মোবারক এবং তার টেন্ডল আঃ হালিমের হাত থেকে ধলপুরবাসীকে রক্ষা করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করে এলাকাবাসী। আঃ হালিম ওনার ভাই উজ্জ্বলকেও নিয়ে এসেছেন, মোবারকের ঘুষ-বাণিজ্যে অনৈতিক সহযোগিতা করার জন্য।
যার দরুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর অঞ্চল - ৫ এর ৪১নং এবং ৪৯ নং ওয়ার্ডে চলে দুই সহোদর ভাইয়ের অনৈতিক, অর্থনৈতিক রাজত্ব যার নেতৃত্বে থাকেন স্বয়ং রেভিনিউ সুপারভাইজার মো: মোবারক হোসেন। আরো জানা যায় নগরভবনে প্রশাসক মহোদয়ের বরাবরে মোবারকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী অভিযোগ করলে ৪৯ নং ওয়ার্ড থেকে বদলির জন্য উপর মহল থেকে চাপ সৃষ্টি হয় কিন্তু কোন এক অজানা কারণে এবারও মোবারক হোসেন পার পেয়ে যায়। এতে আশাহত ও বিষন্নতায় ভোগে ধলপুর এলাকাবাসী, যে কার কাছে দুর্নীতিবাজ রেভিনিউ সুপারভাইজার মোবারক হোসেনের এহেন কর্মকান্ডে সুবিচার পাবো।
আমরা কি একজন ভালো রাজস্ব কর্মচারী পাবনা যার মাধ্যমে আমরাও উপকৃত হব এবং সিটি কর্পোরেশন উপযুক্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত না হয়। এলাকাবাসী আরো জানায় মোবারক এর বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ করা হোক না কেন সে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পুনরায় তার হোল্ডিং ট্যাক্সের সোনার ডিম পাড়া হাস ৪৯ নং ওয়ার্ডকে রক্ষা করে থাকে, এখন আবার মরার উপর খারার ঘা ৪১ ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব।
ধলপুরবাসীদের অভিযোগ তাদের উপরে নানান ছুতা ধরে ঘুষের বোঝা চাপিয়ে দেয়াতে মোবারক সিদ্ধহস্ত। এমনকি তিনি প্রায়ই বলেন, ধলপুরের লোকেরা আমার একটা বাল ও ছিড়তে পারবেনা। ধলপুর এলাকার কেউ কেউ জানায় - আসলেই মোবারক সত্য কথাই বলেছে। কারণ ধলপুরবাসীরা অসহায়। অভিযোগ দিলে মোবারক টাকার জোরে সব ধামাচাপা দেয়। আমাদের পক্ষে আল্লাহ ছাড়া কেউ নাই। মোবারক এখন হুমকি দিচ্ছে আগামী অক্টোবর মাসে ২০২৬, ধলপুর থেকে ঘুষের টাকা আদায় করবেন অতিরিক্ত হারে। এই জালিম ফেরাউন এই ওয়ার্ড থেকে কবে বদলি হবে, সবাই অপেক্ষায় দিন গুনছেন বলে আক্ষেপ ঝারেন।
প্রতি বছর জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন গ্রাহকের ট্যাক্সের টাকা ১০% রিবেট দেয়। এরপর অন্যান্য মাসে আনুপাতিক হারে ৭.৫%-৫% এভাবে রিবেট দেয়। কেউ ৫০,০০০/- ট্যাক্স দিতে গেলে ৫,০০০/- রিবেট পাবেন। এখন কথা হলো মোবারক হোসেন এবং তার (টেন্ডল) কসাই, আঃ হালিম, রিবেটের অর্ধেক অর্থ্যাৎ ৫,০০০/- এর অর্ধেক ২,৫০০/- থেকে ৩,০০০/- জোর-জবস্তি করে রেখে দেয়। পারলে সবটাই রেখে দেয়। এভাবে প্রত্যেক গ্রাহককে ঘুষের নজরানা উপহার দিতে হয়। নতুবা মোবারক এবং তার টেন্ডল আঃ হালিম ট্যাক্স কাটতে চায়না। নানা তালবাহানা শুরু করে। বাড়ি কয়তলা ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করে। বাড়ির ট্যাক্স ধরে, হোল্ডিং নম্বর দিয়ে, নামজারি করালে কাড়িকাড়ি ঘুষের টাকা দিতে হয় মোবারক হোসেন কে। টেন্ডল আঃ হালিম, মোবারককে লক্ষ লক্ষ ঘুষের টাকা আয় করে দেন এবং তিনি নিজেও নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধলপুর এলাকাবাসীদের নিকট থেকে অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সুপারভাইজার মোবারক হোসেন এবং তার টেন্ডল গং কতিপয় বাড়ি থেকে অস্বাভাবিক হারে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স এর নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে -
২৬/২/১, ১/এ, ৩৫/৯ ধলপুর ১০ তলা, ৩৫/১০ ৭ তলা, ৩৪/এফ, ৩২/৪ - ৬ তলা, ৫২/৪ - ৬ তলা, ৬/১৩/১৪ - ১০ তলা, ধলপুর, ৬০/৬/ এইচ - ৫ তলা, ৬০/২৯/সি - ১০ তলা, ৩৫/৭/৩ ব্রাহ্মণ চিরণ, ২৫/০১/ ব্রাহ্মণ চিরন, ৬০/৩৮ ধলপুর ইত্যাদি।
এই ব্যাপারে মতামত জানতে মোবারক হোসেনকে ফোন করা হলে উনি জানায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিল্ডিং থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স এর নিয়ম বহির্ভূত রাজস্ব আদায়, এলাকাবাসীর সাথে দুর্ব্যবহার কোনটাই সত্য নয়। উনি আরো জানায় আপনারা চাইলে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন কিন্তু সাংবাদিকরা তো মনগড়া তথ্য প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে তাকে জানানো হয়, যদি কোন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয় প্রয়োজনে আপনি মানহানীর মামলা করতে পারবেন।
আবার তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তার ব্যক্তিগত সহকারী টেন্ডল আব্দুল হালিমের কথা উনি বলেন আমি তাকে চিনি না। পরবর্তীতে আব্দুল হালিম এর কাছে ফোন দেওয়া হলে উনি জানান আপাতত অফিসে ঝামেলা চলতাছে, আপনি অফিসে যাইয়া টাকা দিয়ে আসেন, আপাতত বাড়িতে আসা সম্ভব না ট্যাক্স নেওয়ার জন্য।
তদবির বাণিজ্য ও মুদ্রা পাচারকারী কে এই কোহিনূর চোকদার?
প্রবাসীদের চলমান সমস্যা সমাধানে আরব আমিরাতের সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রধান টার্গেট বিধবা, কম বয়সি ও অসচ্ছলরা
আদাবরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজন গ্রেফতার; উদ্ধার ৩টি চাপাতি
তিন ধরনের কেক-পাউরুটি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৯ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের রেভিনিউ সুপারভাইজার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: অনুসন্ধানে উঠছে নানা প্রশ্ন
৪১ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে অনিয়ম ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ: তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর
জীবন যাত্রার মান উন্নত করার উপায়