বুধবার ২৮ অক্টোবার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক ০৫ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ১০:৩৮ এ.এম

নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়াল আর্থ’ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়াল আর্থ’ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ নতুন একটি বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। নতুন এই মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে তুলনামূলকভাবে বড় দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আকার আগের চেয়ে ছোট দেখা যাবে। এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 বিশ্বের মহাদেশগুলোর আকার আরও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই নতুন মানচিত্রটি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। শুক্রবারের (৪ সেপ্টম্বর) ভোটে ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আরও ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়াল আর্থ’ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন নামে পরিচিত। জাতিসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটি বিশ্বের মানচিত্রে মহাদেশগুলোর আকারকে আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করে।

সদস্য দেশগুলোকে প্রচলিত ‘মারকেটর প্রজেকশন’-এর পরিবর্তে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর মূলত সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের সুবিধার জন্য এই মানচিত্র তৈরি করেছিলেন।

প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা আফ্রিকার দেশ টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি বলেন, মানচিত্র মানুষের শিক্ষা ও কল্পনাকে প্রভাবিত করে এবং পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের সামষ্টিক ধারণা গড়ে তোলে।

তিনি বলেন, ‘মানচিত্র কখনোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। পৃথিবীর বিকৃত চিত্র তুলে ধরলে সেই ভুল ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোতে মনোযোগ না দিয়ে এই সংস্থা ১৬ শতকের মানচিত্র এবং ক্ষতিপূরণ ও তথাকথিত ‘কগনিটিভ জাস্টিস’-এ এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণেই জাতিসংঘ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।”

কেন নতুন মানচিত্র?

মারকেটর মানচিত্রে মহাদেশগুলোর আকৃতি ও কোণ তুলনামূলকভাবে সঠিকভাবে দেখানো হলেও আয়তনের অনুপাত ঠিক থাকে না। কারণ গোলাকার পৃথিবীকে সমতল কাগজে দেখাতে গেলে কিছু অঞ্চলের আকার স্বাভাবিকভাবেই বিকৃত হয়।

এর ফলে উত্তর গোলার্ধের অঞ্চলগুলোকে তুলনামূলকভাবে বড় এবং বিষুবীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ছোট দেখায়। তাই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বাস্তবের তুলনায় বড়, আর আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা ছোট মনে হয়।

২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন তৈরি করেন। এতে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়াকে তুলনামূলকভাবে বড় এবং তাদের প্রকৃত আয়তনের কাছাকাছি দেখানো হয়েছে।

এই মানচিত্রের অন্যতম নির্মাতা বোয়ান সাভরিচ ২০২৫ সালে এএফপিকে বলেন, ইকুয়াল আর্থ মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন বজায় রাখে এবং যতটা সম্ভব পৃথিবীর গোলকের ওপর মহাদেশগুলোর প্রকৃত আকৃতি তুলে ধরে।

ফ্রান্সও বদলাচ্ছে মানচিত্র

নতুন মানচিত্রের পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে। শুক্রবার দেশটি জানায়, তারা আরও মারকেটর মানচিত্র ব্যবহার করবে না। 

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, ‘প্রচলিত মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় ও প্রভাবশালী দেখা যায়।  এমনকি গ্রিনল্যান্ডকেও প্রায় আফ্রিকার সমান বড় মনে হয়।’

তিনি বলেন,‘মানচিত্র পরিবর্তন করলেই অবশ্য পৃথিবী বদলে যায় না। কিন্তু একটি বিকৃত চিত্র সংশোধন করা সত্যকে তুলে ধরারই একটি পদক্ষেপ।’

আফ্রিকার সঙ্গে, বিশেষ করে সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে ফ্রান্স। নতুন মানচিত্র গ্রহণের উদ্যোগকে সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আরও খবর

news image

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

news image

রিয়াদের দিকে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি সৌদি জোটের

news image

ইন্দোনেশিয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

news image

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও মদিনায় ৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি জোটের

news image

বাণিজ্য কূটনীতির লক্ষ্য নিয়ে ভারতে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

news image

চীনে এপেক সম্মেলনে পুতিন, শি ও ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে: ক্রেমলিন

news image

প্যারিসে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় রেকর্ড ৮৫৫ জন গ্রেপ্তার

news image

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় নির্ধারণে একমত হতে পারেনি জাতিসংঘ জলবায়ু প্যানেল

news image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪

news image

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা আরামকোতে হামলার দাবি হুতিদের, আরও হামলার হুঁশিয়ারি

news image

ভোটার তালিকায় ১৩ কোটি নাম বাদ, বিতর্কে মোদি সরকার

news image

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

news image

বুলগেরিয়ার উপকূলে ২টি জাহাজে ড্রোন হামলা, নিখোঁজ কয়েকজন নাবিক

news image

মালয়েশিয়া থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরেছেন প্রায় দেড় হাজার অভিবাসী

news image

নতুন হামলার হুমকি ইরানের, হরমুজ নিয়ে মার্কিন জবাবের অপেক্ষা

news image

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজে অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেই

news image

‘শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে ইরান, এখন চুক্তি করতে চায়’

news image

যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে : ইরানের প্রেসিডেন্ট

news image

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের

news image

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান

news image

হরমুজ প্রণালীতে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে ট্যাংকারে আগুন

news image

গোপনে ‘ক্লড’ এআই ব্যবহার করে বড় অস্ত্র বানাচ্ছে হুথিরা

news image

ইয়েমেনের ৩২ জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি, দাবি হুথিদের

news image

এক সপ্তাহে ১২ হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি

news image

ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০

news image

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

news image

শত্রুরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে পারবে না: ইরান

news image

মার্কিন হামলার পর ইরানের পালটা আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

news image

তেলাপোকার মৃত্যুতে একাকিত্বে ভুগছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

news image

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত