সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থার মূল কারণ জিম্মি সংকট

অনলাইন ডেস্ক ০৯ জুন ২০২৬ ০৭:১৬ এ.এম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজছেন। আপাতদৃষ্টিতে দুই পক্ষ বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বাস্তবে, ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে দেখছে ক্ষমতার চোখ দিয়ে, আর ইরান দেখছে নিয়ন্ত্রণে রাখার মানসিকতা থেকে। ওয়াশিংটন চায় অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে নতিস্বীকার করাতে। অপরদিকে, ইরানের লক্ষ্য হলো মূল্যবান কিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার মাধ্যমে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে।

বাস্তবতা হলো–জিম্মি সংকট ক্ষমতার ভারসাম্যকে ভেঙে দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের কূটনীতিক হিসেবেও টেবিলে ইরানের এই কৌশলের কাছে মার্কিন কর্মকর্তাদের অসহায় থাকতে হয়েছে। কারণ, তেহরান এমন কিছু নিজেদের দখলে রেখেছে, যা ওয়াশিংটন ফেরত চায়। নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে জিম্মি উদ্ধার ছাড়া ওয়াশিংটনের আর কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সময় সর্বদা ইরানের পক্ষে কাজ করে, কারণ তারা তাড়াহুড়ো না করে চাপ বাড়ার জন্য অপেক্ষা করে। 

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এভিন কারাগার থেকে পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার কাতারে স্থানান্তর করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর ওয়াশিংটন আবারও সেই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়, যা আজও বহাল।

একই কৌশলের বড় প্রয়োগ, জিম্মি বিশ্ব অর্থনীতি 
বর্তমানে ইরান একই কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেছে। এবার তাদের জিম্মি কোনো মার্কিন নাগরিক নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’। বিশ্ব খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তেহরানের চোখে, হরমুজ প্রণালি এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান জিম্মি।

সম্প্রতি ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটন যতক্ষণ না তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ফেরত দেবে, ততক্ষণ এই প্রণালি বন্ধই থাকবে। এই অর্থের মধ্যে ২০২৩ সালের সেই ৬০০ কোটি ডলারও রয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের কাছে বর্তমান আলোচনাটি আরেকটি জিম্মি চুক্তি, যেখানে এবার জিম্মি খোদ বিশ্ব অর্থনীতি এবং দাবির অঙ্ক চার গুণ বড়। 

মার্কিন চাপের সীমাবদ্ধতা 
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে তেল রপ্তানি বন্ধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফলে ইরান তীব্র মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতিতে পড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। কিন্তু তেহরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব জনগণের এই অর্থনৈতিক কষ্টকে পরোয়া করে না।

সামরিকভাবে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার মার্কিন চেষ্টাও মুখ থুবড়ে পড়েছে। ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক পথ বেছে নেন, তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মহসেন রেজাইয়ের মতে, অবরোধ না তুললে তারা যুদ্ধকে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরে টেনে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ, তারা আরও নতুন জিম্মি তৈরি করবে। 

ওয়াশিংটনের সামনে তিনটি পথ 
এই কারণে আলোচনা এখন পুরোপুরি স্থবির। ওয়াশিংটনের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথম পথ হলো ধৈর্য ধরা। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সহ্য করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করা। দ্বিতীয় পথ নতিস্বীকার করা। অর্থাৎ ট্রাম্পের জন্য প্রচণ্ড অবমাননাকর হলেও, ইরানকে কোটি কোটি ডলার দিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া। আর তৃতীয় উপায় হলো আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও সোজা, মূল্যবান সম্পদটি দখলে রাখো এবং অপেক্ষা করো। যতক্ষণ না এই সমীকরণের পরিবর্তন ঘটবে, ততক্ষণ ইরান সহজে হাল ছাড়বে না। দুই পক্ষ ছাড় না দিলে আলোচনাও এ অচলাবস্থায় আটকে থাকবে।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

গোপনে ‘ক্লড’ এআই ব্যবহার করে বড় অস্ত্র বানাচ্ছে হুথিরা

news image

ইয়েমেনের ৩২ জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি, দাবি হুথিদের

news image

এক সপ্তাহে ১২ হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি

news image

ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০

news image

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

news image

শত্রুরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে পারবে না: ইরান

news image

মার্কিন হামলার পর ইরানের পালটা আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

news image

তেলাপোকার মৃত্যুতে একাকিত্বে ভুগছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

news image

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত

news image

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

news image

স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি নয়: আরাগচি

news image

বন্দে মাতরম’ থামিয়ে ‘পাপ’ করেছেন সোনিয়া, ক্ষমা চাওয়ার দাবি অমিত শাহের

news image

লেবানন ও গাজা থেকে সেনা সরাবে না ইসরাইল

news image

‘ট্রাম্পকে গুপ্তহত্যার ছক ইসরাইলের সাজানো নাটক’

news image

ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড কলম্বিয়া, নিহত অন্তত ৪৭

news image

আফগানিস্তানে স্বর্ণ উত্তোলনের হিড়িক, নেপথ্যে কী?

news image

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তরণ নিয়ে প্রথম দিনের সংলাপ অনুষ্ঠিত

news image

জলবায়ু পরিবর্তনে কানাডার দাবানলের ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়েছে : গবেষণা

news image

ফ্রান্সে দাবানলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোলাবারুদ উদ্ধার

news image

ইরানের পথ দুটি, চুক্তি কিংবা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প

news image

হামাস অস্ত্র ছাড়লেও গাজায় থামেনি ইসরাইলি নৃশংসতা

news image

গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে হঠাৎ ভিডিও বার্তা মোদির

news image

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট

news image

পারমাণবিক বোমা বানানোর নির্দেশ দিতে পারেন মোজতবা খামেনি

news image

হুথিদের হুমকিতে সৌদির তেল রপ্তানিতে শঙ্কা

news image

তীব্র জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে রাশিয়ার মানুষ

news image

মালয়েশিয়ায় ৮১ বাংলাদেশিসহ ১১৩ অবৈধ অভিবাসী আটক

news image

পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

news image

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ আর নেই

news image

ভেনেজুয়েলায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আট দিন পর একজন জীবিত উদ্ধার