বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জনস্বার্থ

প্রধান টার্গেট বিধবা, কম বয়সি ও অসচ্ছলরা

অনলাইন ডেস্ক ২০ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪৪ পি.এম

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

  • ভালো চাকরির প্রলোভনে বিদেশে পাঠানো
  • বাধ্য করা হয় যৌন ব্যবসা
  • ডান্স ক্লাব ও ম্যাসাজ পারলারে
  • শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র

 

কম বয়সি, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসচ্ছল নারীরাই এখন মানব পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট। তুলনামূলক কম শিক্ষিত ও দরিদ্র নারী-কিশোরীদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে।

রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল বা পোশাক কারখানায় কাজের আশ্বাস দিলেও সেখানে পৌঁছে অনেককে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব, যৌন ব্যবসা ও ম্যাসাজ পারলারে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অস্বীকৃতি জানালে চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অনেকেই যৌন সহিংসতার শিকার হন। দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের বড় অংশ অপুষ্টি, যৌনরোগ ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ট্রমায় ভুগছেন।

আইএলওর র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অন চাইল্ড ট্রাফিকিং ইন বাংলাদেশ-২০২৩ অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের মেয়ে ও নারীদের পাচারের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

শিক্ষার সুযোগের অভাব, পারিবারিক ঋণের চাপ এবং কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অনেক পরিবার মেয়েদের বিদেশে কাজে যেতে বাধা দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারী চক্র অভিভাবকদের অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী দিয়ে প্রভাবিত করে।

প্রলোভন থেকে নির্যাতনের শিকার : কেরানীগঞ্জের ২৩ বছর বয়সি আসমা আক্তার (ছদ্মনাম) এমনই এক ভুক্তভোগী। মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনে রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর আগে তাকে ভ্রমণ ভিসায় দুবাই নেওয়া হয়।

সেখানে পৌঁছেই তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং ডান্স ক্লাবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। সারা রাত কাজ, ঘুমহীন জীবন এবং অতিথিদের মনোরঞ্জন করতে না পারলে নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অবশেষে দেশে ফিরলেও পাচারকারী চক্রের সদস্যদের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তাকে ফিরতে হয়। পাওনা ১৮ লাখ টাকার পরিবর্তে দেওয়া হয় মাত্র ২ লাখ টাকা। পরে বাকি টাকা ও পাসপোর্ট ফেরতের আশ্বাস দিয়ে আবারও দুবাই পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।

গত ১৪ মে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসমাকে উদ্ধার করে এবং পাচারকারী চক্রের সদস্য আবদুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে মানব পাচারের অভিযোগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে আসমা বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

১৩ বছরের কিশোরীও রক্ষা পায়নি : ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সি বাংলাদেশি কিশোরী রুপালি (ছদ্মনাম) আত্মীয়ের মাধ্যমে ভারতে পাচারের শিকার হয়। বেড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কলকাতা, পরে আহমেদাবাদে নিয়ে বিক্রি করা হয়। একাধিক হাতবদলের পর ৪০ হাজার টাকায় তাকে আরেক নারীর কাছে বিক্রি করা হয়। সেখানে গৃহকর্মীর কাজ করার পাশাপাশি মালিকের ছেলের যৌন নির্যাতনের শিকার হয় সে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত-বিস্তৃত পাচার নেটওয়ার্ক : বাংলাদেশ পুলিশ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচার করা হচ্ছে। অনেককে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হচ্ছে, আবার অনেককে যৌন শোষণের শিকার হতে হচ্ছে।

‘শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে চলছে নারী পাচার’ : রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে নারী পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজের কথা বলে পাঠানো অনেক নারী জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত হচ্ছেন। আবার ভারতে নেওয়া অনেক নারী বন্দিদশায় থেকে যৌন শোষণের শিকার হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, মানব পাচার মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা রয়েছে। দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষীর অভাব এবং পরে সমঝোতার কারণে অনেক মামলা ভেঙে পড়ে। আন্তর্জাতিক পাচার চক্র দমনে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের মতো সমন্বিত ও কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরও খবর

news image

তদবির বাণিজ্য ও মুদ্রা পাচারকারী কে এই কোহিনূর চোকদার?

news image

প্রবাসীদের চলমান সমস্যা সমাধানে আরব আমিরাতের সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

news image

প্রধান টার্গেট বিধবা, কম বয়সি ও অসচ্ছলরা

news image

আদাবরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজন গ্রেফতার; উদ্ধার ৩টি চাপাতি

news image

তিন ধরনের কেক-পাউরুটি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

news image

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৯ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের রেভিনিউ সুপারভাইজার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: অনুসন্ধানে উঠছে নানা প্রশ্ন

news image

৪১ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে অনিয়ম ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ: তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

news image

জীবন যাত্রার মান উন্নত করার উপায়