অনলাইন ডেস্ক ১৬ জুন ২০২৬ ০২:০৩ পি.এম
ফাইল ছবি
ম্যাচ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল মাত্র ৫৬ হাজার। আর স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ লাখে। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়েছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা।
সোমবার রাতে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়ার নায়ক ছিলেন তিনি।
স্পেনের আক্রমণভাগের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ‘ভাইরাল নায়ক’ বনে গেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
কেপ ভার্দের ইতিহাসে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভোজিনহা বলেছিলেন, এটি তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আর স্পেনের মতো বিশ্বসেরাদের বিপক্ষে মাঠে নামাটা ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় উপলক্ষ।
ম্যাচজুড়ে স্পেন গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেললেও ভোজিনহা ছিলেন অটল। পুরো ম্যাচে তিনি ২৭টি শটের মুখোমুখি হন। এর মধ্যে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে এনে দেন মূল্যবান এক পয়েন্ট। ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বলেন, সে নিজেকে সামলাতে পারেনি। এত বছর ধরে এই মঞ্চে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার এই কান্না দীর্ঘ সংগ্রামেরই প্রতিফলন।
কেপ ভার্দের ছোট শহর মিন্দেলোতে জন্ম ভোজিনহার। ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল স্ট্রাইকার হওয়ার।
তিনি জানান, তার বাবা আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার হোর্হে ভালদানোর নাম অনুসারে তার নাম রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি নিয়মের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে তার নাম রাখা হয় ভোজিনহা, যার অর্থ ‘ছোট কণ্ঠস্বর’।
পেশাদার ফুটবলে তার পথচলা ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। ২০০৭ সালে স্থানীয় ক্লাব বাতুকে দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এরপর কেপ ভার্দে, পর্তুগাল, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে খেলেন।
ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি আলোচিত না হলেও জাতীয় দলের জার্সিতে বরাবরই নির্ভরতার প্রতীক ভোজিনহা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে কোনো গোল হজম করেননি তিনি।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনহা বলেন, আজ যদি ১৮ বছরের সেই ভোজিনহার সঙ্গে দেখা হতো, আমি তাকে বলতাম, নিজেকে নিয়ে গর্ব করো।
তিনি আরও বলেন, এই একটি মুহূর্তের জন্য আমি সারা জীবন অপেক্ষা করেছি। আমার বয়স এখন ৪০ বছর। ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করি। মাঝেমধ্যে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছি। কিন্তু স্বপ্নের পেছনে লেগে ছিলাম। এই ম্যাচসেরার পুরস্কার শুধু আমার নয়, পুরো দলের।