আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ২১ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ০৪:২৮ পি.এম
ছবি
২০২৬ সালে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যেই গণপরিবহনে দেখা গেছে। ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাস ও লেগুনার ভাড়া বাড়ার খবর এসেছে; দূরপাল্লার কয়েকটি রুটেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটও অর্থনীতি ও জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। চলতি বছর খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রায় ১৬.৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ LNG মূল্যের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকির ওপর চাপ বেড়েছে এবং শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে বলে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (BPC) লোকসান এবং সীমান্তপথে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্নও অস্বীকার করার সুযোগ নেই—এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত কতটা জনগণের কাঁধে গিয়ে পড়বে?
সরকারের অর্থনৈতিক বাস্তবতা যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়, পরিবহন ব্যয়, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
জনগণ শুধু মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা শুনতে চায় না; তারা চায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস, জ্বালানির স্থিতিশীল বাজার, সহনীয় পরিবহন ব্যয়, কার্যকর সরকারি সেবা এবং দুর্নীতি ও অপচয় নিয়ন্ত্রণ।
একটি সরকারের সাফল্য কেবল অর্থনৈতিক সূচকে নয়—সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি কতটা ফিরেছে, সেটিও তার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
তাই সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন—
জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
সরকারি সেবায় হয়রানি ও অনিয়ম কমাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?
জনগণের প্রত্যাশা একটাই—
দেশের অর্থনীতি যেমন স্থিতিশীল হবে, তেমনি মানুষের জীবনেও স্বস্তি ফিরবে।
জনগণের কষ্টের বাস্তব চিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
তারেক রহমান সরকারের অগ্রগতির পথ: প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণ দেখতে চায় বাস্তব সাফল্য
মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেট: আধুনিক বিশ্বের চর্চা, নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের বাস্তবতা
বাংলাদেশ সরকারের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা
তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাসের চাপে জনগণের নাভিশ্বাস—জনস্বস্তি ফিরবে কবে?
অটোরিকশার চাপ কমাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই
আজাদ খান: চিকিৎসা, গবেষণা ও জনস্বাস্থ্যে এক দীর্ঘ অভিযাত্রার নাম
অপরাধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যকর ক্ষমতার বিকল্প নেই
জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল
যে কারণে সব সিম কার্ডের এক কোণা কাটা থাকে
বিকাশ, রকেট ও নগদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট
অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে লিগ্যাল এইড