বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
সম্পাদকীয়

অটোরিকশার চাপ কমাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই

আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী | ঢাকা নিউজ অনলাইন ২৪ ১৬ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ১০:৩৮ পি.এম

ছবি ছবি

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নগরজীবনে এসব যানবাহন সাধারণ মানুষের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা, সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

ফলে অটোরিকশার চাপ কমানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
তবে এ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যেন উপেক্ষিত না হয়—অটোরিকশার সঙ্গে জীবিকা জড়িত বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ।

একজন চালকের পেছনে একটি পরিবার নির্ভরশীল থাকতে পারে। হঠাৎ করে অটোরিকশা বন্ধ বা ব্যাপকভাবে উচ্ছেদ করা হলে তার প্রভাব শুধু একজন চালকের ওপর পড়ে না; স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবারের আয়-রোজগার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তাই যানজট কমানোর উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উদ্যোগ যেন শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা সংকট তৈরি না করে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিংয়ের পাশাপাশি যারা এই পেশার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চাইলে এসব শ্রমিককে বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহজ শর্তে ঋণ, পরিবহন খাতের অন্যান্য কাজে পুনর্বাসন, নির্মাণ ও সেবা খাতে দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

একই সঙ্গে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত চালকদের জন্য নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করার সুযোগও রাখা যেতে পারে।

অন্যদিকে, অটোরিকশা ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। কোন সড়কে কী ধরনের যান চলবে, কোথায় স্ট্যান্ড থাকবে, কতসংখ্যক যান চলাচল করবে এবং চালকদের কী ধরনের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম থাকতে হবে। নিয়ম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপের পরিবর্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

নগরের যানজট কমাতে হলে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নও অপরিহার্য। সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন যত শক্তিশালী হবে, ব্যক্তিগত ও ছোট যানবাহনের ওপর মানুষের নির্ভরতা তত কমবে। ফলে অটোরিকশার ওপর অতিরিক্ত চাপও ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হবে।

আমরা মনে করি, মানুষকে কর্মহীন করে কোনো নগর ব্যবস্থাপনা টেকসই হতে পারে না। তাই অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গিয়ে আরেকটি পক্ষের জীবিকা ধ্বংস করা কোনো দায়িত্বশীল নীতির পরিচয় হতে পারে না।

অটোরিকশার চাপ কমাতে হবে—কিন্তু শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে নয়। পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, উন্নত গণপরিবহন এবং শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিত করেই টেকসই সমাধানের পথে এগোতে হবে।
 

শ্রমিকের জীবিকা রক্ষা এবং নগরের শৃঙ্খলা—দুটিই নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।